• Bangladesh Mathematical Olympiad
  • Bangladesh Mathematical Olympiad
  • Bangladesh Mathematical Olympiad
  • Bangladesh Mathematical Olympiad
  • Bangladesh Mathematical Olympiad
  • Bangladesh Mathematical Olympiad
  • Bangladesh Mathematical Olympiad
  • Bangladesh Mathematical Olympiad
  • Bangladesh Mathematical Olympiad
Print

ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও নরসিংদী আঞ্চলিক গণিত উৎসবের খবর

নরসিংদী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালেয়র মাঠে গতকাল গণিত উৎসবে প্রশ্ন করার জন্য দাঁড়িয়েছে ওরা l ছবি: প্রথম আলো

আঞ্চলিক গণিত উৎসবের তৃতীয় দিনের মিলনমেলাও দারুণ জমে উঠেছিল। গতকাল রোববার কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও নরসিংদীতে তিনটি আসরে সাত জেলার ৮০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৮ শ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। কুষ্টিয়া ও নরসিংদীর উৎসবে পাটের জীবনরহস্য উন্মোচনকারী বাংলাদেশি বিজ্ঞানী সদ্যপ্রয়াত মাকসুদুল আলম স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আঞ্চলিক গণিত উৎসবের এ বছরের উৎসব শুরু হয় গত শুক্রবার। ওই দিন সুনামগঞ্জ, খুলনা, ময়মনসিংহ ও পাবনায় ১১ জেলার ২০৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। শনিবার রাজশাহী, টাঙ্গাইল, হবিগঞ্জ ও নড়াইলে ১০ জেলার ১৪১ প্রতিষ্ঠানের তিন হাজার শিক্ষার্থী উৎসবে মেতে ওঠে। সর্বশেষ গতকাল রোববার তিনটি স্থানে অনুষ্ঠিত উৎসব সকালে বন্ধুসভার সদস্যদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়।
আমারও একটা প্রশ্ন আছে—গতকাল কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত গণিত উৎসবে হাত তুলে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা এক শিক্ষার্থীর l ছবি: প্রথম আলো

ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাস উপেক্ষা করে সকাল সাড়ে আটটার আগেই পূর্ণ হয়ে যায় কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের মাঠ। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা হাকিম (এডিএম) আনার কলি মাহবুব। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা তোলেন জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিভা রানী পাঠক এবং আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা তোলেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কুষ্টিয়া শাখার ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম।
উৎসবে কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলার প্রায় ২৫টি প্রতিষ্ঠানের ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সকাল পৌনে ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় বেলা ১১টায়। এরপর মূল প্যান্ডেলে চলে প্রশ্নোত্তর পর্ব। অন্যদিকে শিক্ষক মিলনায়তনে চলে খাতা দেখার কাজ। প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীদের মজার মজার ও চমকপ্রদ প্রশ্নের উত্তর দেন মুনির হাসান। এর ফাঁকে ফাঁকে চলে কুষ্টিয়া বন্ধুসভার সদস্য ও উৎসবে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের গান, কবিতা ও আবৃত্তি। উৎসবে রুবিকস কিউব ২৪.৬ সেকেন্ড মিলিয়ে প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের ছাত্র আবদুল্লাহ শাহরিয়ার।
ঝিনাইদহ ওয়াজির আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গতকালের গণিত উৎসবে প্রশ্ন করছে এক শিক্ষার্থী l ছবি: প্রথম আলো

উদ্বোধনী বক্তব্যে আনার কলি মাহবুব বলেন, ‘শীতের শীতল বাতাস ও গণিতের ভয় উপেক্ষা করে তোমরা এখানে এসেছ। তোমরাই পারবে ভবিষ্যতে দেশকে নেতৃত্ব দিতে।’
অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক নুরুন্নাহার, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের সাধারণ সম্পাদক ও যুব কর্মসূচির সমন্বয়ক মুনির হাসান, প্রথম আলোর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি তৌহিদী হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ঝিনাইদহ ওয়াজির আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে উৎসবে অংশ নেয় ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও মাগুরা জেলার ২৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাত শতাধিক শিক্ষার্থী।
সকাল সাড়ে নয়টায় সরকারি কেসি কলেজের অধ্যক্ষ বি এম রেজাউল করিম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন ওয়াজির আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা নাহিদ আক্তার এবং বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ আমেনা খাতুন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান।
রেজাউল করিম বলেন, ‘মানুষের উন্নতির জন্য ভাষায় দক্ষতা আর গণিতে পারদর্শিতা থাকা দরকার। প্রথম আলো শিক্ষার্থীদের নিয়ে নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে, যা আমাদের ছেলেমেয়েদের বুদ্ধি বিকাশে অনেক এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’
গণিতের পরীক্ষা শুরু হয় সকাল ১০টায়। শেষ হয় বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত। আলোচনা করেন অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান, শিক্ষক নাহিদ আক্তার, প্রবীণ শিক্ষক আলতাফ হোসেন, বন্ধুসভার সভাপতি সাইক-আল-জামি লিশন ও প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আজাদ রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রথম আলো বন্ধুসভার উপদেষ্টা শাহীনূর আলম।
নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রায় ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পৌনে পাঁচ শ শিক্ষার্থী সমবেত হয় নরসিংদীর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে। জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোরশেদ জামান জাতীয় পতাকা, ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খোদাদাদ খান গণিত অলিম্পিয়াডের আন্তর্জাতিক পতাকা এবং সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র মিত্র বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন। উৎসব উদ্বোধন করেন গৌতম চন্দ্র মিত্র। অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম উপস্থিত ছিলেন। উৎসবে শিক্ষার্থীরা মাদক, মুখস্থ ও মিথ্যাকে না বলার অঙ্গীকার করে।
১৩তম বর্ষের এই উৎসবের আয়োজক বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। পৃষ্ঠপোষক ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রথম আলো। ‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’ স্লোগান নিয়ে প্রাথমিক, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক—এই চার বিভাগে শিক্ষার্থীরা উৎসবস্থলে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। সব স্থানেই বন্ধুসভার সদস্যদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসব উদ্বোধন করা হয়।

Print

কুষ্টিয়া ও নরসিংদীতে গণিত উৎসবের আপডেট

কুষ্টিয়ায় গণিত উৎসবে পরীক্ষায় মগ্ন শিক্ষার্থীরা। ছবি: তৌহিদী হাসান

কুষ্টিয়া ও নরসিংদীতে আজ রোববার সকাল থেকে শুরু হয়েছে গণিত উৎসব। শীতের সকালে এ উৎসবে দুই জেলার প্রায় ৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।
কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল সকাল সাড়ে আটটা। এর আগেই ঘন কুয়াশা ও মৃদু শীতল বাতাস জয় করে শিক্ষার্থীরা উৎসবস্থলে আসতে শুরু করে। সাড়ে আটটার আগেই পূর্ণ হয়ে যায় কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের মাঠ। সেখানে ডাচ-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসব শুরু হয়েছে।
সকাল নয়টায় কুষ্টিয়া বন্ধুসভার সদস্যরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আনার কলি মাহবুব। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা তোলেন কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিভা রানী পাঠক ও আন্তর্জাতিক পতাকা তোলেন ডাচ-বাংলা ব্যাংকের কুষ্টিয়া শাখার ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম। এ সময় বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের সাধারণ সম্পাদক ও যুব কর্মসূচির সমন্বয়ক মুনির হাসান, প্রথম আলোর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি তৌহিদী হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে আনার কলি মাহবুব বলেন, ‘শীতের শীতল বাতাস ও গণিতের ভয়কে উপেক্ষা করে তোমরা যারা আজ এখানে এসেছ, তোমরাই পারবে ভবিষ্যতে দেশকে নেতৃত্বে দিতে। জয় করবে সকল বাধা-বিপত্তি।’
কুষ্টিয়ার উৎসবে কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলার প্রায় ২৫টি প্রতিষ্ঠানের ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। সকাল পৌনে ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়।
নরসিংদী: সকাল থেকেই নরসিংদী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে আসতে থাকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা। এখানেই গণিত উৎসবের নরসিংদী আঞ্চলিক পর্যায়ের অনুষ্ঠান। ১৩তম এ গণিত উৎসবের স্লোগান ‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সকাল সাড়ে নয়টায় নরসিংদী বন্ধুসভার সদস্যরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোরশেদ জামান জাতীয় পতাকা, ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খোদাদাদ খান গণিতের আন্তর্জাতিক পতাকা ও নরসিংদী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র মিত্র বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র মিত্র গণিত উৎসবের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে নরসিংদী ও ব্রহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রায় ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পৌনে পাঁচ শ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এই চার বিভাগে ভাগ হয়ে শিক্ষার্থীরা গণিত প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।

Print

রাজশাহী, টাঙ্গাইল, হবিগঞ্জ ও নড়াইল গণিত উৎসবের খবর

নড়াইল সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে গতকাল গণিত উৎসবে প্রশ্ন করে এক শিক্ষার্থী l ছবি: প্রথম আলো

শব্দতরঙ্গ কী, প্লুটোকে গ্রহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে কেন—এমন অফুরন্ত প্রশ্ন আর উত্তর। পাশাপাশি নাচ, গান, কবিতা, কুইজ। নানা আয়োজনে গতকাল শনিবার রাজশাহী, টাঙ্গাইল, হবিগঞ্জ ও নড়াইলে হয়ে গেল গণিত উৎসব।
উৎসবে বিশিষ্টজনদের কথায় উঠে আসে গণিতের মাহাত্ম্য, ‘গণিত মানুষকে সৃজনশীল হতে শেখায়’, ‘গণিতের ছন্দ সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে নিহিত আছে’।
এ উৎসবের আয়োজক বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। পৃষ্ঠপোষক ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রথম আলো। ‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’ স্লোগান নিয়ে প্রাথমিক, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক—এ চার বিভাগে শিক্ষার্থীরা উৎসবস্থলে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। চার ভেন্যুতে ১০টি জেলার অন্তত ১৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী যোগ দেয়।

রাজশাহী: সকাল নয়টায় এক হাজার শিক্ষার্থীর কণ্ঠে ধ্বনিত হলো জাতীয় সংগীত। উত্তোলন করা হলো জাতীয় পতাকা। ‘গণিত শেখো স্বপ্ন দেখো’—স্লোগান লেখা উৎসবের ব্যানার নিয়ে আকাশে উড়ে গেল একঝাঁক বেলুন। শুরু হলো রাজশাহী আঞ্চলিক গণিত উৎসব।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এ উৎসবে রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
উৎসবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মকবুল হোসেন। জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের স্থানীয় শাখার ব্যবস্থাপক আবু আলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান ও আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক জালাল উদ্দিন। উদ্বোধনী বক্তব্যে মকবুল হোসেন বলেন, ‘আজকের এই খুদে গণিতবিদদের হাতে যদি থাকে দেশ তাহলে প্রথম আলোর ভাষায় বলতে হয়, পথ হারাবে না বাংলাদেশ।’
সকাল পৌনে ১০টায় শুরু হয় এক ঘণ্টার পরীক্ষা। এরপর প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই পর্বে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক, গণিত বিভাগের শিক্ষক আসহাবুল হক, রবিউল হক, রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের উপাধ্যক্ষ আবদুস সামাদ মণ্ডল, রাজশাহী কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষক শহীদুল আলম ও নগরের ছোটবনগ্রাম ইউসেপ স্কুলের শিক্ষক মাসুদ রানা।
প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরুর আগে পাকিস্তানে তালেবানের হামলায় নিহত শিশুদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরের শিক্ষার্থী মজার মজার প্রশ্ন করে পুরস্কার জিতে নেয়।
উৎসবে রুবিকস কিউব প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র সাদমান ইবনে সাইফুল।
অনুষ্ঠানের রাজশাহী বন্ধুসভার বন্ধুরা গণিত জয়ের গান ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।


প্রশ্ন করছে এক শিক্ষার্থী। গতকাল হবিগঞ্জ বিকেজিসি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে l ছবি: প্রথম আলো

টাঙ্গাইল: সকাল নয়টায় শুরুর কথা থাকলেও শীত উপেক্ষা করে সাড়ে আটটার মধ্যেই পরিপূর্ণ হয়ে যায় উৎসবস্থল। টাঙ্গাইল শহরের বিবেকানন্দ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু সালেহ্ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন খাঁ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খোদাদাদ খান, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, বিবেকানন্দ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আনন্দ মোহন দে।
খোদাদাদ খান বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, সৃজনশীল না হয়ে পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়ে লাভ নেই। গণিত মানুষকে সৃজনশীল হতে শেখায়।’
উদ্বোধনী অধিবেশনের পর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে শুরু হয় কুইজ ও প্রশ্নোত্তর পর্ব। প্রশ্নের উত্তর দেন খোদাদাদ খান, আব্দুল কাইয়ুম, আবু সালেহ্ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন খাঁ, আনন্দ মোহন দে, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান পিনাকী দে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাজ্জাদ ওয়াহিদ ও আহসান হাবিব, পদার্থবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক যোবায়দুল ইসলাম। উৎসবের বিভিন্ন পর্বের সঞ্চালনা করেন জাহিদ হোসাইন খান, মোর্শেদুল আমিন ও টাঙ্গাইল বন্ধুসভার আল মোসাব্বির।

হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জ বিকেজিসি বালিকা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে গতকাল সকাল সাড়ে নয়টায় শুরু হওয়া উৎসবে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পাশাপাশি ছিলেন তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকেরাও। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এ গণিত উৎসবের উদ্বোধন করেন বিকেজিসি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমেনা খাতুন। এ সময় আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বিজিত কুমার ভট্টাচার্য্য ও বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংক হবিগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নজমুল হক।
বিজিত কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘সব শিক্ষার্থীই পড়াশোনায় ভালো করতে চায়। কিন্তু যখন প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়, তখন আমরা সবাই হতাশ হই। এ অপতৎপরতা বন্ধ না হলে শিক্ষার মান নিয়ে আমরা এগোতে পারব না।’ আমেনা খাতুন বলেন, গণিত শিক্ষার্থীদের নতুন পথ দেখাবে।
এরপর পরীক্ষা ও তারপর প্রশ্নোত্তর ও কুইজ প্রতিয়োগিতা শুরু হয়। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির একাডেমিক কাউন্সিলর মাহমুদুল হাসান। এ পর্বে উপস্থিত ছিলেন বিকেজিসি উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুধাংশু কুমার কর্মকার ও নবীগঞ্জ হোমল্যান্ড আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাপস চন্দ্র আচার্য্য। অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন হবিগঞ্জ বন্ধুসভার সদস্যরা।

নড়াইল: ঘন কুয়াশা আর হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক আর অতিথিরা সকাল নয়টা বাজার আগেই নড়াইল সরকারি উচ্চবিদ্যালয় চত্বরে জড়ো হতে শুরু করেন। নয়টায় বন্ধুসভার সদস্যদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব। এ সময় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক আবদুল গাফফার খান, আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা তোলেন নড়াইল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনিল কুমার বিশ্বাস এবং বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা তোলেন ভাষাসৈনিক রিজিয়া খাতুন।
জেলা প্রশাসক উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সকাল ১০টায় ঘণ্টা বাজিয়ে পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়। মোট ৮৬৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষা নিয়ে বেশ উত্তেজনা ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে। কে পাস করবে, ঢাকায় যাওয়ার টিকিট পাবে। মজার পর্ব ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব। নানা প্রশ্নের উত্তর দেন গণিতবিদ সৌমিত্র চক্রবর্তী। গণিত অলিম্পিয়াড একাডেমির কাউন্সিলর দলের সদস্য কামরুল হাসান, সুদীপ্ত, স্বাক্ষর, হাসান ইমাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানস্থলে নির্মিত তাম্রলিপি, গণিত অলিম্পিয়াডের বই, রকমারি ডট কম, বন্ধুসভার চারটি স্টলে বেশ ভিড় দেখা যায়। পরে বন্ধুসভার সদস্যরা সংগীত পরিবেশন করে।
সমাপনীতে বিশিষ্ট সমাজসেবক শৈলেন্দ্রনাথ সাহা, সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনিল কুমার বিশ্বাস বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রথম আলোর নড়াইল প্রতিনিধি কার্ত্তিক দাস।

Print

সকাল থেকে চার জেলায় চলছে গণিত উৎসব

 

হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত গণিত উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের একাংশ। ছবিটি আজ বি কে জি সি বালিকা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে তোলা। ছবি: আনিস মাহমুদরাজশাহী, নড়াইল, টাঙ্গাইল ও হবিগঞ্জে আজ শনিবার সকালে শুরু হয়েছে গণিত উৎসব। ‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’—স্লোগান নিয়ে শুরু হওয়া উৎসবের আয়োজক বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। এতে পৃষ্ঠপোষকতা করছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। আর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে প্রথম আলো। 
আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
রাজশাহী: ঘড়ির কাঁটায় সকাল নয়টা। এক হাজার শিক্ষার্থীর কণ্ঠে ধ্বনিত হলো জাতীয় সংগীত। তোলা হলো জাতীয় পতাকা। ‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’—স্লোগান লেখা উৎসবের ব্যানার নিয়ে আকাশে উড়ে গেল একঝাঁক বেলুন। শুরু হলো রাজশাহী আঞ্চলিক গণিত উৎসব। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত উৎসবে রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী উৎসবে অংশ নেয়। 
উৎসবের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মকবুল হোসেন। জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন ডাচ্-বাংলা লিমিটেডের স্থানীয় শাখার ব্যবস্থাপক আবু আলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান ও আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক জালাল উদ্দিন। সকাল পৌনে ১০টায় শুরু হয় পরীক্ষা। বেলা ১১টায় পরীক্ষা শেষে চলছে প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই পর্বে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও প্রথম আলোর যুববিষয়ক কর্মসূচির সমন্বয়ক মুনির হাসান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অরুণ কুমার বসাক, গণিত বিভাগের শিক্ষক আসাবুল হক, রবিউল হক ও নগরের ছোটবনগ্রাম ইউসেপ স্কুলের শিক্ষক মাসুদ রানা। 

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের স্থানীয় বিবেকানন্দ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সকালে উৎসবের উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সালেহ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন খাঁ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট গণিত বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক খোদাদাদ খান, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, বিবেকানন্দ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আনন্দ মোহন দে বক্তব্য দেন। উৎসবে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।
নড়াইল: নড়াইল শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ। ঘন কুয়াশা আর হাড় কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক আর অতিথিরা সকাল নয়টা বাজার আগেই নড়াইল সরকারি উচ্চবিদ্যালয় চত্বরে জড়ো হতে শুরু করেন। নয়টায় বন্ধুসভার সদস্যদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের কার্যক্রম। এ সময় জেলা প্রশাসক মো. আবদুল গাফফার খান জাতীয় পতাকা, নড়াইল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনিল কুমার বিশ্বাস আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড পতাকা ও ভাষাসৈনিক রিজিয়া খাতুন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড পতাকা তোলেন। কাল ১০টায় ঘণ্টা বাজিয়ে পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করা হয়। মোট ৮৬৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জে শুরু হয়েছে আঞ্চলিক পর্যায়ের গণিত উৎসব। আজ সকাল নয়টায় বি কে জি সি বালিকা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ উৎসব শুরু হয়। হবিগঞ্জের এ গণিত উৎসবে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক—এই চার বিভাগে শিক্ষার্থীরা গণিত প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। ১৩তম গণিত উৎসবের উদ্বোধন করেন ভেন্যু প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আমেনা খাতুন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বিজিত কুমার ভট্টাচার্য ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের হবিগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নজমুল হক।

 

apmoimoimo-logo-2013