• Bangladesh Mathematical Olympiad
  • Bangladesh Mathematical Olympiad
  • Bangladesh Mathematical Olympiad
  • Bangladesh Mathematical Olympiad
  • Bangladesh Mathematical Olympiad
  • Bangladesh Mathematical Olympiad
  • Bangladesh Mathematical Olympiad
  • Bangladesh Mathematical Olympiad
  • Bangladesh Mathematical Olympiad
Print

৫৫তম আইএমওর জন্য বাংলাদেশ গণিত দলের নাম ঘোষণা

IMO All

আগামী ৩ থেকে ১৩ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহরে বসবে প্রাক্-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের সবচেয়ে বড় আসর ৫৫তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড (আইএমও)-২০১৪। এ আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ছয় কৃতী শিক্ষার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। শিক্ষার্থীরা হলো নূর মোহাম্মদ শফিউল্লাহ (ঢাকা কলেজ), আদিব হাসান (ময়মনসিংহ জিলা স্কুল), সাজিদ আখতার তূর্য (বিএল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, সিরাজগঞ্জ), আসিফ-ই-ইলাহী (সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় সিলেট), মো. সানজিদ আনোয়ার (ময়মনসিংহ জিলা স্কুল) ও মুতাসিম মিম (রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী)।
এর আগে চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির উদ্যোগে ‘ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসব’-এর আঞ্চলিক পর্বের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দশমবারের মতো আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ জাতীয় গণিত দলের সদস্যদের অন্বেষণ। এরপর ২২টি আঞ্চলিক গণিত উৎসবে অংশ নেয় সারা দেশের প্রায় ২৪ হাজার শিক্ষার্থী। এসব আঞ্চলিক উৎসবে বিজয়ী এক হাজার ৫৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ৮ ও ৯ ফেব্র“য়ারি ঢাকার সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় দ্বাদশ বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড ও জাতীয় গণিত উৎসব ২০১৪। দ্বাদশ বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড থেকে জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরির সেরা ৩৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ১২ থেকে ২০ মার্র্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় দশম বাংলাদেশ গণিত ক্যাম্প। পরবর্তী সময়ে দশম বাংলাদেশ বাংলাদেশ গণিত ক্যাম্প, এপিএমও ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ২০ জন সেরা শিক্ষার্থী নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় আইএমও দল নির্বাচনী ক্যাম্প। এই ক্যাম্পের ফলাফলের ভিত্তিতে বাংলাদেশ গণিত দলের কোচ মাহবুব মজুমদার দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠেয় ৫৫তম আইএমওর জন্য ছয় সদস্যের বাংলাদেশ দল সুপারিশ করেন। কোচের সুপারিশ অনুযায়ী বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি এই ছয় সদস্যের দল চূড়ান্ত করে। এ ছাড়া দলের সঙ্গে দলনেতা, উপদলনেতা ও পর্যবেক্ষক হিসেবে যাবেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের কোচ মাহবুব মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান ও একাডেমিক কাউন্সিলর তামিম শাহ্রিয়ার।
১৯৫৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজন শুরু হয়। বাংলাদেশ সদস্যপদ লাভ করে ২০০৪ সালে এবং ২০০৫ সাল থেকে আইএমওতে অংশ নেওয়া শুরু করে বাংলাদেশ।  এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে (আইএমও) বাংলাদেশ একটি রৌপ্যপদক, নয়টি ব্রোঞ্জপদক এবং ১৬টি সম্মানজনক স্বীকৃতি লাভ করেছে।
উল্লেখ্য, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রথম আলোর  ব্যবস্থাপনায় ৫৫তম আইএমওর জন্য ছয় জনের বাংলাদেশ গণিত দল নির্বাচন ও এর আনুষাঙ্গিক আয়োজন করেছে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি।

Print

এপিএমওতে বাংলাদেশের দুটি ব্রোঞ্জ পদক

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক গণিত অলিম্পিয়াড এশিয়ান-প্যাসিফিক ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াডের (এপিএমও) ২৬তম আয়োজনে বাংলাদেশ দুটি ব্রোঞ্জ ও তিনটি সম্মানজনক স্বীকৃতি (অনারেবল মেনশন) পেয়েছে। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী নূর মোহাম্মদ সফিউল্লাহ এবং ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী আদিব হাসান ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে। এ ছাড়া সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফ-ই-এলাহী, সিরাজগঞ্জ বিএল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদ আখতার ও ঢাকার সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষার্থী সৌমিত্র দাস পেয়েছে সম্মানজনক স্বীকৃতি। বাংলাদেশের এমন সফলতায় বাংলাদেশ গণিত দলের কোচ মাহবুব মজুমদার জানান, 'আমি এমন ফলাফলে খুশি। আশা করছি আগামী বছর আমরা ১০ জনকে নির্বাচন করতে পারব এবং ফলাফল আরও ভালো হবে।'
এপিএমওর সদস্য ৩৬টি দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হয় এ প্রতিযোগিতা। এরই অংশ হিসেবে গত ১১ মার্চ ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশে এপিএমওর আয়োজন করে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। চলতি বছর ৭১ জন শিক্ষার্থী এ প্রতিযোগিতার বাংলাদেশ পর্বে অংশ নেয়। এর মধ্যে মেধার ভিত্তিতে সাতজনকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচন করা হয়। বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত হলেও এপিএমওর পরীক্ষা হয় অভিন্ন প্রশ্নে। অলিম্পিয়াডে গণিতের পাঁচটি সমস্যা সমাধানের জন্য চার ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। ঢাকায় অনুষ্ঠিত এপিএমওতে সারা দেশ থেকে আসা প্রাক্-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। ফলাফলের বিস্তারিত জানা যাবে http://daryn.kz/apmo?lang=en ঠিকানায়।

Print

জাতীয় গণিত উৎসবের সমাপনী

জীবনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রত্যয়
আশীষ-উর-রহমান | ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৪

পরীক্ষা নেই, তাই কোনো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও নেই। শুধুই আনন্দ আর গলা ছেড়ে চিৎকার দেওয়া। এই করে গতকাল শনিবার গণিত উৎসবের সমাপনী দিনটি কাটল নতুন প্রজন্মের গণিত অনুরাগীদের। রাজধানীর সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের মাঠে গত শুক্রবার শুরু হয়েছিল দুই দিনের ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো জাতীয় গণিত উৎসব ২০১৪ ও দ্বাদশ বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড। বিজয়ীদের পুরস্কৃত করার মধ্য দিয়ে শেষ হলো গণিতের এই আনন্দঘন উৎসব।
গতকালের অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল সকাল নয়টায়। আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পরীক্ষা হয়েছিল শুক্রবার। ফল জানার জন্য উদগ্রীব ছিল সবাই। ‘গণিত শেখো স্বপ্ন দেখো’ ছাপ দেওয়া টি-শার্ট গায়ে অভিভাবকদের নিয়ে উৎসবমঞ্চের সামনে সমবেত হয়েছিল সবাই। কথোপকথন, গান, গণিতের পটগান, রুবিকস কিউব প্রতিযোগিতা, আলোচনা আর শেষে পুরস্কার বিতরণী—এসব নিয়েই ছিল জমানো আয়োজন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথোপকথনের একপর্যায়ে জানতে চাইলেন, তারা দেশের প্রধানমন্ত্রী হলে কে কী করবে? একেকজনের একেক অভিপ্রায়। কেউ বলল, স্কুলে কম্পিউটার গেমস বাধ্যতামূলক করবে, কেউ বলে স্কুলগুলো খুব বিরক্তিকর, তাই বন্ধ করে দেবে। এর মধ্যে একজন উঠে বলল, ‘প্রধানমন্ত্রী একা কোনো দেশকে ভালো করতে পারে না। সবাই মিলে দেশকে ভালো করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী হলে সবাইকে নিয়ে দেশকে ভালো করার কাজ করব।’ তার পর থেকে নিজের জন্য, দেশের জন্য ভালো কাজ করার প্রেরণা ও প্রত্যয়ই প্রধান সুর হয়ে থাকল পুরো অনুষ্ঠানে।
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি দিয়ে সমবেত সংগীত শুরু করেছিলেন প্রথম আলো বন্ধুসভার বন্ধুরা। এরপর তাঁরা শোনান ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’, ‘মন শুধু মন ছুঁয়েছে’ ও ‘জীবনের আহ্বানে সামনে এগিয়ে যাই’ গানগুলো। আর্জেন্টিনা গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়া তানজিম শরিফ শোনান ‘সোনা বন্ধু তুই আমারে’ গানটি। দেশের ঐতিহ্যবাহী পটগান ছিল এরপর। গণিত উৎসব নিয়ে রূপান্তর থিয়েটারের পটগানটি বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল। পটে আঁকা ছবির সঙ্গে নাচ ও গানের মধ্যে দিয়ে শিল্পীরা গণিত উৎসবের গত এক যুগের কার্যক্রম তুলে ধরেন।
এরপর ছিল আরেকটি আকর্ষণীয় পর্ব। রুবিকস কিউব প্রতিযোগিতা। আগের ২২ সেকেন্ডের জাতীয় রেকর্ড ভেঙে দিয়ে ১৮ সেকেন্ডে কিউব মিলিয়ে নতুন রেকর্ড করে চ্যাম্পিয়ন হয় হাসান জহিরুল ইসলাম। দ্বিতীয় হুমায়ূন কবির ও তৃতীয় শাকিব বিন রশিদ।
এরপর শুরু হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। প্রথমেই গণিতে অবদান এবং গণিত উৎসবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় দেশের প্রবীণ গণিতবিদ লুৎফুজ্জামান ও খোদাদাদ খানকে দেওয়া হয় আজীবন সম্মাননা। প্রতিক্রিয়ায় লুৎফুজ্জামান বলেন, জীবনের এই পর্যায়ে এসে সম্মাননা পাওয়ায় তিনি আনন্দে আপ্লুত। খোদাদাদ খান বলেন, প্রাণের টানে তিনি গণিত উৎসবে আসেন। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা যে গণিতভীতি কাটিয়ে গণিতকে আনন্দের বিষয় হিসেবে নিয়েছে, তাতে তিনি অভিভূত। এই পর্যায়ে দেশের সেরা গণিত ক্লাব মেহেরপুরের গাংনী গণিত পরিবার, এবারের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার সেরা কেন্দ্র, সেরা ব্যবস্থাপনা এসব ক্ষেত্রে সেরাদের পুরস্কার দেওয়া হয়।
পুরস্কারের ফাঁকে ফাঁকে আলোচনা আর নতুন নতুন ঘোষণার মধ্যে দিয়ে চলছিল অনুষ্ঠান। আগের বিশেষ পুরস্কারগুলোর সঙ্গে আরও নতুন চারটি পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয় এবার। এগুলো হলো প্রকৌশলী লুৎফর রহমান স্মৃতি পুরস্কার, জামাল নজরুল ইসলাম স্মৃতি পুরস্কার, গৌরাঙ্গ দেব রায় স্মৃতি পুরস্কার ও জেবুন্নেছা হোসেন পুরস্কার। এরপর বিতরণ করা হয় আগের দিনে সুডোকু প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার। প্রথম হয়েছে রিফা মুহাইমিনা রহমান, দ্বিতীয় সাহিকা আহমেদ ও তৃতীয় হয়েছে হাসান ইশরাক। তাদের পুরস্কৃত করার পর ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইদুল হাসান প্রতিযোগীদের উৎসাহ দিয়ে বলেন, ‘তোমাদের এই কৃতিত্ব ধরে রাখতে হবে। ভবিষ্যতের জন্য মহৎ পরিকল্পনা করতে হবে।’
বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, সারা দেশে গণিত উৎসবের মধ্যে দিয়ে শিক্ষার্থীদের মন থেকে গণিতভীতি দূর হয়েছে। সারা বিশ্বে এই উৎসব একটি ব্যতিক্রমী উৎসব হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও আলোচনা করেন গণিত অলিম্পিয়াডের কোচ মাহবুব মজুমদার, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম ও আনিসুল হক। উপস্থিত ছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী এ আর খান, এফ আর সরকার, জিনবিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী, বিজ্ঞান লেখক রেজাউর রহমান, সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের অধ্যক্ষ ব্রাদার রবি পিউরিফিকেশন, উপাধ্যক্ষ ব্রাদার বিকাশ ডি রোজারিও সিএসসি, তাজিমা মজুমদারসহ অনেকে।
আলোচনার পালা শেষ। এরপর গণিত প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে চারটি বিভাগের বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণীর পালা। এবার প্রাথমিক, জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি এই চারটি বিভাগে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে বিজয়ী এক হাজার ৫৫ জন অংশ নেয় জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়। এদের মধ্যে ৮১ জন বিজয়ীকে গতকাল পদক, ক্রেস্ট, সনদ ও বিশেষ পুরস্কারের অর্থ দেওয়া হয়। এদের মধ্যে চার বিভাগে সেরাদের সেরা হয়েছে প্রাথমিকে শাহাদাৎ হোসাইন, জুনিয়রে তাহমিদ আনজুম, সেকেন্ডারিতে প্রীতম কুণ্ডু ও হায়ার সেকেন্ডারিতে নূর মোহাম্মদ শফিউল্লাহ। সবাই মিলে ‘আমরা করব জয়’ গানটি গেয়ে জীবনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার প্রত্যয় নিয়ে বাড়ি ফেরে নবীন প্রজন্ম।
উৎসব সঞ্চালনায় ছিলেন গণিত অলিম্পিয়াডের একাডেমিক কাউন্সিলর মাহমুদুল হাসান ও তামিম শাহিরয়ার।

Print

গণিত উৎসবে প্রাণের স্ফুরণ

আশীষ-উর-রহমান | ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৪

একে পরীক্ষা, তার ওপর বিষয়টি অঙ্ক। ভয়ে বুক দুরুদুরু করারই কথা। কিন্তু হলুদ টি-শার্ট গায়ে চাপিয়ে যারা গতকাল শুক্রবার সকালে সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শ্রেণীকক্ষের দিকে ছুটল পরীক্ষা দিতে—তাদের চোখেমুখে ভয়ের ছাপ তো ছিলই না, বরং উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখে মনে হচ্ছিল, অঙ্কের চেয়ে মজার কোনো বিষয় আর হতেই পারে না।
গত এক যুগের চেষ্টার এই ফল। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অঙ্কভীতি কাটিয়ে এখন উৎসবে মেতে উঠেছে অঙ্ক নিয়ে। গতকাল ছিল সেই উৎসবেরই জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত আয়োজন: ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো জাতীয় গণিত উৎসব ২০১৪ ও দ্বাদশ বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড। এবার আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড হবে দক্ষিণ আফ্রিকায় আগামী ৩ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত। তাতে অংশগ্রহণের জন্যই বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনায় দেশজুড়ে গণিত উৎসবের আয়োজন করে।
এবার আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল জানুয়ারি মাসে। প্রতিযোগিতা হয়েছে ২২টি অঞ্চলে। গত বছর হয়েছিল ১৭টি অঞ্চলে। প্রাথমিক, জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি—এই চারটি বিভাগে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। তাদের মধ্যে বিজয়ী এক হাজার ৫৫ জনকে নিয়ে গতকাল শুক্রবার থেকে ঢাকায় শুরু হলো দুই দিনের জাতীয় উৎসব। দেশে গণিতের এই উৎসব শুরু হয়েছিল ২০০৩ সালে। এবার হলো তার যুগপূর্তি। এই এক যুগের সাফল্য—দেশের তরুণদের নয়টি অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে একটি রৌপ্য, আটটি ব্রোঞ্জসহ নয়টি পদক জয়।
উৎসবের জমকালো সাজে সাজানো হয়েছিল সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের বিরাট মাঠটি। দক্ষিণ প্রান্তে শামিয়ানা টানিয়ে উৎসব মঞ্চ। পশ্চিম পাশে আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর বুথ। উত্তর আর পূর্বে বিভিন্ন প্রকাশনী ও প্রতিষ্ঠানের স্টল। এর মধ্যে ছিল প্রথমা, কিশোর আলো, তাম্রলিপি, সময়, মুক্ত আসর, বন্ধুসভা, এভারেস্ট একাডেমির অ্যাডভেঞ্চারার্স ক্লাব, মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা ছোটদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং গণিত ও বিজ্ঞানবিষয়ক বইয়ের স্টল। আরও ছিল আঞ্চলিক উৎসবগুলোর ছবি, অলিম্পিয়াডে পদকজয়ীদের ছবিসংবলিত বিশালাকার বোর্ড।
অংশগ্রহণকারীদের নাম নিবন্ধন শুরু হয়েছিল সকাল আটটা থেকে। সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের অধ্যক্ষ ব্রাদার রবি পিউরিফিকেশন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে উৎসবের উদ্বোধন করেন। এমন একটি উৎসবের কেন্দ্র হিসেবে তাঁদের প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়ার জন্য তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিতের প্রতি আরও আগ্রহ সৃষ্টি করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন দেশের গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিয়ে বলেন, প্রতিবছরই অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা বাড়ছে। ভবিষ্যতে হয়তো এই মাঠে আর জায়গাই হবে না। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, যেভাবে আমাদের তরুণ প্রজন্ম শিক্ষা-বিজ্ঞানের চর্চায় এগিয়ে এসেছে, তাতে ২০৩০ সালের মধ্যে বিজ্ঞানে আমাদের নোবেল পুরস্কার পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এস তাবরেজ বলেন, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এই আয়োজনের সঙ্গে জড়িত হয়ে আনন্দিত। গণিত অলিম্পিয়াড থেকে দেশের প্রতিযোগীরা ব্রোঞ্জ ও রৌপ্যপদক জয় করেছে। ভবিষ্যতে স্বর্ণপদকও জয় করবে বলে তিনি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।
দেশের সব ধর্মের মানুষ যেন মিলেমিশে একসঙ্গে বসবাস করতে পারে, সে জন্য নবীন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানালেন কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তিনি বলেন, ‘এই দেশে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ—সবাইকে মিলেমিশে একসঙ্গে থাকতে হবে। হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হচ্ছে। তাদের অনেকেই হয়তো এই উৎসবে আসতে পারছে না। সবাই যেন আসতে পারে, তোমাদের সেই দায়িত্ব নিতে হবে। তা না হলে শুধু অঙ্ক নিয়ে মেতে থাকা আর পদক জয় করা অর্থবহ হবে না।’
প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান তাঁর বক্তব্যে বিগত এক যুগে গণিত অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম ও সাফল্য তুলে ধরে বলেন, ছোট করে শুরু হলেও আজ গণিত উৎসব দেশের একটি বিশাল উৎসবে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য আনবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খোদাদাদ খান, লুৎফুজ্জামান, মোহাম্মদ কায়কোবাদ, এফ আর খান, আনোয়ার হোসেন, রাশেদ তালুকদার, মোহিত কামাল, মুসা ইব্রাহীম, মুনির হাসান প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরেই শুরু হয় পরীক্ষা পর্ব। অংশ নিতে শিক্ষার্থীরা ছুটল শ্রেণীকক্ষের দিকে, আর তাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকেরা কেউ গেলেন স্টলগুলোর সামনে, কেউ বিশ্রাম নিলেন মঞ্চের সামনে পাতা চেয়ারে বসে।
পরীক্ষার পর ব্যবস্থা ছিল দুপুরের খাবারের। এরপর সন্ধ্যা অবধি আনন্দের হরেক আয়োজন। জল রকেট ওড়ানো, সুডোকু প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আনন্দ আরও বেড়েছিল প্রিয় লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালকে কাছে পেয়ে। সকালে পরীক্ষা থাকায় শিক্ষার্থীরা তাঁর অটোগ্রাফ সংগ্রহ আর ছবি তোলার সুযোগ তেমন পায়নি। তিনি মাঠে আসামাত্রই সবাই ঘিরে ফেলে তাঁকে। একপর্যায়ে মঞ্চ থেকে ‘জাফর স্যার জাফর স্যার, মঞ্চে আসুন, মঞ্চে আসুন’ স্লোগান দিয়ে তাঁকে মঞ্চে আনা হয়। মজার মজার কিছু গল্প শোনালেন তিনি শিক্ষার্থীদের। এ পর্বে মঞ্চে ছিলেন লুৎফুজ্জামান, দেশের সর্বকনিষ্ঠ ফিদে মাস্টার ফাহাদ রহমান ও মুসা ইব্রাহীম।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর্ব শুরু হয়েছিল সমবেত কণ্ঠে গণিত উৎসবের গান ‘মন মেলে শোন শুনতে পাবি বিজয়ের আহ্বান/ গণিতের ধ্বনিতে বাজে ঐ মুক্তির জয়গান’। পরে বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থীরা আবৃত্তি, অভিনয়, নৃত্য ও গানে গানে মুখর করে তোলে বসন্তের গোধূলি বেলা।
আজকের আয়োজন: আজ সমাপনী দিনের অনুষ্ঠান শুরু হবে সকাল সাড়ে আটটায়। থাকবে গণিতের পট, ভাষা ও দেশের গান, রুবিকস কিউব প্রতিযোগিতা, সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী। অনুষ্ঠানটি সরাসরি www.prothom-alo.com ও www.matholympid.org.bd তে দেখা যাবে।

ছবি: ঘণিত অলিম্পিয়াডের ফেসবুক গ্রুপে
https://www.facebook.com/groups/BdMOC/

apmoimoimo-logo-2013