9th BdMO

নিউট্রিনোর গতি

0

পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হল স্থান এবং সময়ের ধারণা। মহাবিশ্বের যেকোনো ঘটনার বর্ণনা দিতে গেলেই প্রয়োজন হয় স্থান এবং সময়। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের জ্ঞানের ভান্ডারও সরাসরি এই ধারণাগুলির উপর নির্ভরশীল। স্থান-কাল সম্পর্কে আমাদের বর্তমান জ্ঞানকে প্রকাশ করার একটি সুন্দর উপায় হল আলোর গতি । মহাবিশ্বকে আমরা কিভাবে পর্যবেক্ষণ করি তার সাথে আলোর (তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ) সরাসরি সম্পর্ক থাকা এবং আলোক কণিকার (ফোটন) ভর শূণ্য হওয়ার সুবাদে মহাবিশ্বে আলোর গতির একটি বিশেষ অবস্থান আছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে আইনস্টাইন তার আপেক্ষিকতার তত্ত্বের মাধ্যমে এই ধারণাটি সুপ্রতিষ্ঠিতি করেন। আপেক্ষিকতার তত্ত্ব অনুসারে আলোর গতি পর্যবেক্ষকের উপর নির্ভরশীল নয় (ট্রেন স্টেশনে একটি ট্রেন যখন চলতে শুরু করে তখন যাত্রীদের কাছে মনে হয় যে আসলে স্টেশনটিই পেছন দিকে চলছে; তার কারণ ট্রেন এবং স্টেশন উভয়ের গতিই পর্যবেক্ষকের উপর নির্ভরশীল। একইভাবে যেকোনো ভরবিশিষ্ট বস্তুর গতিই পর্যবেক্ষকের উপর নির্ভরশীল।) এবং কোনো বস্তুই আলোর চেয়ে বেশি বেগে যেতে পারবে না। গত একশ বছরে পদার্থবিজ্ঞানের যত আবিষ্কার তার প্রায় সবই এই ধারণার উপর নির্ভরশীল।

কিন্তু সম্প্রতি জেনেভায় গবেষণাকেন্দ্র সার্নে “অপেরা” নমের একটি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে (more…)

PARADIGM SHIFT

0

Sleepless in Sylhet: and a Mathathon

author: Dr Abed Chaudhury

Never before in my life have I passed a sleepless night over Mathematics. Mathematics, at once an enigma and a fright for many, and a matter of excitement for a lucky few, somehow passed me by. I accepted it as an unpleasant but necessary fact of life, a body of knowledge to be acquired by rote and chore, to be repelled when possible and to cram when necessary. Although a student of Science including Physics and Chemistry, my Bangladeshi formal education never adequately showed the link between the language of nature and its fascinating mathematical foundation. (more…)

জাতীয় উৎসবের বিজয়ীরা

0

প্রাইমারী

চ্যাম্পিয়ন

রেজি: নাম প্রতিষ্ঠান
2106 দেবজিত পন্ডিত দিপ দিনাজপুর জিলা স্কুল
2194 মো: রায়ানুর রহমান অর্নব ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর
2197 তাহমিদ আনজিম খান রংপুর জিলা স্কুল
2107 এস এম নায়মুল ইসলাম বগুরা জিলা স্কুল
2191 মালিহা ফেরদৌস ভিকারুননিসা নূন স্কুল, ঢাকা

প্রথম রানারআপ

রেজি: নাম প্রতিষ্ঠান
2002 সুপ্রভা হক ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর
2162 সুময়দিপ স্যন্যাল নালন্দা বিদ্যালয়, ঢাকা
2135 এ.এইচ.এম. ওসমান হক কে.বি. উচ্চ বিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
2198 মোহাম্মদ রাফি উদ্দিন ময়মনসিংহ জিলা স্কুল
2024 তানভির আহমেদ (তন্ময়) রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল
2010 রাফিদ হোসেন (পলাশ) বিএন স্কুল অ্যান্ড কলেজ

সেকেন্ড রানারআপ

রেজি নাম প্রতিষ্ঠান
2206 তৌওসিফ হোসেন ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
2187 আবদুল্লাহ আল রাফি মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা
2014 নাহিয়ান শাবাব হোসেনপুর উত্তরা গভ: স্কুল
2052 সোহোম মুনাসিব শাহান ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
2046 এম হাসিন ইসমাম জিত বিএএফ শাহিন কলেজ
2180 মুশফিক উদ্দিন আহমেদ ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
2064 আদিবা ইয়াসমিন আনন্দ নিকেতন বিদ্যালয়
2019 সুভিক শাহা জয় ময়মনসিংহ জিলা স্কুল

জুনিয়র

চ্যাম্পিয়ন

রেজি নাম প্রতিষ্ঠান
4052 প্রতিম কুন্ডু সেইন্ট গ্রেগরী উচ্চ বিদ্যালয়
4078 রিফাত আরেফিন হক গভ: ল্যাবরেটরী উচ্চ বিদ্যালয়
2032 সানজিদ আনোয়ার ময়মনসিংহ জিলা স্কুল
4222 মো: আহসানুল কবির সানিডেল, ঢাকা

প্রথম রানারআপ

রেজি নাম প্রতিষ্ঠান
4045 এ.এ.টি হাসান খান টুলোন ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ময়মনসিংহ
4007 মো: শাহিবুর রহমান মহেশপুর উচ্চ বিদ্যালয়
4005 মো: ফাহিম আশরাফ খান কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ
4191 সাইদ ইনাম মুনজার সানবিম স্কুল
4156 মুরিন সুহাইলা আসজাদ সানিডেল
4141 এস এম সোহরাব হোসেন গভ: ল্যাবরেটরী উচ্চ বিদ্যালয়, রাজশাহী
4040 সাজিদ আক্তার তূর্য বিএ গভ: বালক উচ্চ বিদ্যালয়, সিরাজগঞ্জ

সেকেন্ড রানারআপ

রেজি নাম প্রতিষ্ঠান
4205 মো: সাইফুল বারি সিদ্দিকী চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল
4102 আকাশ লানার্ড গভ: ল্যাব উচ্চ বিদ্যালয়, রাজশাহী
4024 বিশাল বাসাক পাপন গভ: ল্যাব উচ্চ বিদ্যালয়, রাজশাহী
41170 নাজমুস সাকিব উদয়ন হায়ার সেকেন্ডারী স্কুল
4106 সাজিদ হাসান ঠাকুরগাও গভ বালক উচ্চ বিদ্যালয়
4062 মো: সালমান সামিল বিএন গভ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চট্টগ্রাম
4201 সামীম ফাতেহা এসএওএস হারম্যাম মেইনার কলেজ
4041 এ এসএম জুবায়ের খান রংপুর জেলা স্কুল, রংপুর

সেকেন্ডারী

চ্যাম্পিয়ন

রেজি নাম প্রতিষ্ঠান
6196 মিম আরাফাত মানাত গভ: ল্যাব হাই স্কুল , ঢাকা
6091 নূর মো: শাফিউল্লাহ মাহী মনিপুর হাই স্কুল ঢাকা
6010 সৌরভ দাস চট্টগ্রাম গভ: হাই স্কুল
6034 হাসিব আল মুহইমিন খুলনা জিলা স্কুল , খুলনা

প্রথম রানারআপ

রেজি নাম প্রতিষ্ঠান
6038 ধ্রব জয়ত সেন শাহজিবাজার পিডিবি উচ্চ বিদ্যালয়, সিলেট
6036 বৃষ্টি সিকদার চট্টগ্রাম গ্রামার স্কুল, চট্টগ্রাম
6012 আজওয়াদ আনজুম দিপ্ত ব্লু বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ
6065 রেজওয়ান মোহাম্মদ তন্ময় আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
6178 অতনু মুখার্জি ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ

সেকেন্ড রানারআপ

রেজি নাম প্রতিষ্ঠান
6130 নিসর্গ নিলয় গভ: ল্যাব হাই স্কুল, ঢাকা
6161 নাফিস তিহামি ময়মনসিংহ জিলা স্কুল
6078 সুসমিত হোসেন পৃথুল সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারী স্কুল
6206 শেহাব সারার আহমেদ গভ: ল্যাব হাই স্কুল ঢাকা
6014 এম এম আল ফারাবি বগুরা জিলা স্কুল,
6052 মৃথুলা হৃদি রাজধানী হাই স্কুল, ঢাকা

হায়ার সেকেন্ডারী

চ্যাম্পিয়ন

রেজি নাম প্রতিষ্ঠান
8163 কাজি হাসান জুবায়ের খুলনা পাবলিক কলেজ, খুলনা
8149 নাফিজা আনজুম প্রমী সিলেট গভ: ওমেনস’ কলেজ, সিলেট
8006 নাফিস ইরতিজা তৃপ্ত আনন্দ মোহন কলেজ
8026 মাহতাব নূর সান নটরডেম কলেজ ঢাকা

প্রথম রানারআপ

রেজি নাম প্রতিষ্ঠান
8153 মির্জা মোহাম্মদ তাওসিফ শরীফ স্নিগ্ধ নটরডেম কলেজ
8170 নূরে তাসনিম হলিক্রস কলেজ
8142 বিশ্বমিত্র ঘোষ স্বাতক্ষীরা গভ: কলেজ
8104 রিপন কুমার শাহা রাজেন্দ্র কলেজ, ফরিদপুর
8050 সালাহউদ্দিন পারভেজ শামস নিউ গভ: ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহী
8086 সাদমান সাইদ সোয়ান গভ: এম এম সিটি কলেজ , খুলনা

সেকেন্ড রানারআপ

রেজি নাম প্রতিষ্ঠান
8034 মো: তানজিম রহমান খুলনা পাবলিক কলেজ
8164 এ ডি এম মার্জানার জান্নাত নটরডেম কলেজ
8008 মো: নোমান হাসান খুলনা পাবলিক কলেজ ঢাকা
8167 মো: ওয়াহিদ মুরাদ নটডেম কলেজ
8156 রুবাবা হাসান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ
8102 সাদমান ইকবাল সানিডেল স্কুল
8028 চন্দন রায় ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ রংপুর

চ্যাম্পিয়ন অব দি চ্যাম্পিয়ন

ক্যাটেগরী রেজি নাম প্রতিষ্ঠান স্কোর
প্রাইমারী 2049 আজমেদ জাওয়ার চৌধুরী ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যন্ড কলেজ , চট্টগ্রাম 95
জুনিয়র 4013 মো: মোহাইমিনুল ইসলাম গভ: ল্যাব হাই স্কুল ঢাকা 69
সেকেন্ডারী 6136 মো: জাইদুল হাসান ময়মনসিংহ জিলা স্কুল 62
হায়ার সেকেন্ডারী 8010 ধনঞ্জয় বিশ্বাস চট্টগ্রাম কলেজ 80

বিশেষ পুরষ্কার

সজল কাজল পুরষ্কার

রেজি: ২০৩৯

নাম: তানজিম আজওয়াদ জামান

প্রতিষ্ঠান: সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারী স্কুল, ঢাকা

স্কোর:  ৮৭

আবিদ রেজা চৌধুরী স্মৃতি পুরষ্কার

রেজি: ৪০১৯

নাম: আদিব হোসেন

প্রতিষ্ঠান: ময়মনসিংহ জিলা স্কুল

স্কোর: ৬৬

দেলওয়ারা বেগম পুরষ্কার

রেজি: ৬০২১

নাম: তাহমিদ হোসেন

প্রতিষ্ঠান: খুলনা জেলা স্কুল

স্কোর: ৫২

সুফিয়া-নুরুল পুরষ্কার

রেজি: ৮০১৩

নাম: মো: তমাল হোসেন

প্রতিষ্ঠান: নটরডেম কলেজ

স্কোর: ৬৭

জমে উঠেছে গণিত উৎসবের প্রথম দিন

0

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জমে উঠেছে নবম জাতীয় গণিত উৎসবের প্রথম দিন। সকালে জাকজমক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে উৎসবের মূল আয়োজন গণিত অলিম্পিয়াড শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী অনিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, সহ সভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ডাচ বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এস তাবরেজ, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, গণিত অলিম্পিয়াডের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান সহ দেশ সেরা গণিতবিদ এবং শিক্ষকবৃন্দ। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া গণিত অলিম্পিয়াডে প্রায় আটশত দশজন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। শিক্ষার্থীরা যখন গণিত সমাধানে ব্যাস্ত তখন অবিভাবকরা নিজেদের মধ্যে গণিত আড্ডায় ব্যস্ত। ইতিমধ্যে প্রাইমারী ক্যাটেগীরর পরীক্ষা শেষ হয়েছে, দুপুর ২টার মধ্যে অন্যান্য ক্যাটেগরীর পরীক্ষাও শেষ হয়ে যাবে। এর পরে শুরু হবে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে সাংস্কৃতিক পর্ব। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে আকাশ দেখা পর্ব। এবারই প্রথম পুরো আয়োজন ওয়েবসাইটে সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছে। পাশাপাশি পুরো অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ ওয়াইফাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে। অনুষ্ঠানের নানা তথ্য এফ এম রেডিও এবং ইনটারনেট রেডিওতে সম্প্রচার করা হচ্ছে।

‘ডে’স উইথ ম্যাথস্’-এর ঝাঁপি থেকে

0

সকাল সোয়া আটটা। ভিডিও ক্যাসেটে রেকর্ড চলছিল। হঠাত ফিতা আটকে গেল। এডিটিং প্যানেলে আমি ছাড়া আছে মামুন ভাই। আমার করুণ চেহারা দেখে নিজেই আবার রেকর্ডিং শুরু করলেন। পরদিন গণিত দল রওনা দিবে ভিয়েতনাম। সব কাজ শেষ করতে হবে তার আগেই। অবশেষে গণিত অলিম্পিয়াড নিয়ে ডকুমেন্টারির মাস্টার টেপ তৈরী হলো।

সাড়ে দশটা নাগাদ সোবহানবাগ পৌছালাম। টেপ থেকে ডিভিডি করতে হবে। ডিভিডিতে ট্রান্সফার চলছিল। হঠাৎ আবিষ্কার করলাম ছবির সাথে কোন শব্দ নেই। অগত্যা আবার দৌড় বাবর রোডে এডিটিং প্যানেলে। আবার রেকর্ড করতে হলো। আবার ফিরলাম সোবহানবাগ। কিন্তু লাভ কিছুই হলোনা। শ্রুতিচিত্র প্রডাকশনস-এর মানিক ভাইয়ের সাহায্য নিলাম। তিনি বললেন এডিটিং প্যানেলের টেপ রেকর্ডার নিজের বাসায় নিয়ে কাজটা করে দিবেন। পরদিন সকালে অবশেষে মানিক ভাইয়ের সাহায্যের কারণেই আমি ‘ডে’স উইথ ম্যাথস্’-এর ডিস্ক হাতে পেয়েছিলাম।

এটা খুব ছোট একটা অংশ আমার অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে। গণিত উৎসবের উপর ডকুমেন্টারি তৈরীর অভিজ্ঞতা আসলে লিখে বোঝানো খুব কঠিন। বাংলাদেশের ৬টি শহরে গণিত উৎসবে আমি দেখেছি কী উৎসাহ বাচ্চাদের এই উৎসব নিয়ে আর তার সাথে মুভার্সদের কী অক্লান্ত পরিশ্রম ! কত দূরের পথ পাড়ি দিয়ে শুধুই এই আনন্দে অংশ নিয়েছেন জাফর ইকবাল স্যার, লুৎফুজ্জামান স্যার! আর এসবের মধ্য দিয়ে একটু একটু করে আমার ঝুলিতে জমা হচ্ছিল ছোট ছোট গল্প, ছোট ছোট সিকোয়েন্স। এডিটিং প্যানেলে বসে একা একা যখন কাজ করেছি বারবার উৎসবকে আরো একটু কাছে থেকে দেখেছি। কিছু কিছু সময় যন্ত্রের মতো দৃশ্যের পর দৃশ্য বাদ দিয়েছি । বুঝে উঠতে পারিনি কোন দৃশ্য রাখব কোনটা বাদ দিব। মুনির ভাইকে ধন্যবাদ আমার সাধনার স্বাধীনতায় কোন ভাবেই হস্তক্ষেপ করেননি।

উৎসবের যে অংশটুকু আমরা দেখি বা দেখাই তাকে ঘিরে যে বিশাল যজ্ঞ তা কোথাও দেখানো হয়নি কখনো। ঢাকার বাইরে কোন উৎসব দেখতে যাওয়া এ যজ্ঞের একটা ভারি মজার অংশ। সৌভাগ্যক্রমে ২০০৭ সালের বেশ কয়েকটা উৎসবে যাওয়ার সুযোগ আমি পেয়েছিলাম। এর মধ্যে যেটা না বললেই নয় সে গল্পটা হলো দিনাজপুর গণিত উৎসবের। প্রায় নয় ঘন্টার যাত্রা শেষে দিনাজপুরের রামসাগর দীঘির বাংলোতে আমরা পৌছাই। সঙ্গী ছিলেন নবী ভাই, মুনির ভাই, জাফর ইকবাল স্যার, লুৎফুজ্জামান স্যার, সোহাগ ভাই আর পিয়াস। একে তো জঙ্গল আর দীঘির পাড়ে বাংলো। তার উপর ইলেক্ট্রিসিটি থাকেনা প্রায়ই। সবাই অন্ধকারে বাইরে দাঁড়িয়ে আর এর মধ্যে শুরু হলো ভূতের গল্প। সোহাগ ভাই থেকে শুরু করে জাফর ইকবাল স্যার সবাই নিজ নিজ ঝাঁপি খুলে বসলেন। আমি আগেই ঘোষণা দিয়েছিলাম আমি ভূত ভয় পাই। তাতে মনে হয় অন্যদের আরো সুবিধা হলো। স্যার শোনালেন ভূত নিয়ে তার সব এক্সপেরিমেন্ট সফল কিন্তু একটার কোন মীমাংসা হয়নি। চারদিকে জোনাকী নিভছে আর জ¦লছে। ঝিঁঝিঁর শব্দ কানে আসছে। ত্রিসীমানায় জনমানব আছে কীনা বাংলোর সামনে অন্ধকারে তাও বোঝা মুশকিল। আর তার মধ্যে যখন স্যার বললেন এক্সপেরিমেন্ট অমীমাংসিত তাহলে তো একটু ভয় পেতেই হয়।

এই মজার গল্পগুলো আমি আমার ডকুমেন্টারিতে আনতে পারিনি। ছুটে গেছে আরো অনেক টুকরো ঘটনা যা আসলেই আমাদের এই প্রতিযোগিতাকে উৎসব বানায়। কিন্তু নিজের জায়গা থেকে বলবো, ছবি বানানোর স্বপ্নটা ভালোভাবে দেখে ওঠার আগেই আমার এই স্বপ্নটা পূরণ হয়েছিল গণিত উৎসব আর মুনির ভাইয়ের কারণে। একা বসে যখন এডিট করতাম মাঝে মাঝেই হাল ছেড়ে দিতাম। আবার সাহস যোগাতাম।  ‘ডে’স উইথ ম্যাথস্’ আমাকে নিজের গন্ডি থেকে অনেক দূরে নিয়ে আসে। অনেকগুলো মানুষ অকারনেই আমাকে সাহায্য করে, ভালবাসে এটা আসলেই অদ্ভুত। নানান ব্য¯Íতায় এখন গণিত উৎসব থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি । এখনো পত্রিকার পাতায় বিজ্ঞপণে চোখ আটকে যায়। মনে মনে একবার হিসাব করে দেখি উৎসবে যেতে পারব কীনা। হয়তো আর যাওয়া হয়ে ওঠেনা। তারপরও গণিত উৎসব সবসময়ই থাকবে আমার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি ।

নন্দিতা তাবাসসুম

মুভার্স

Go to Top
%d bloggers like this: