Event

গণিত উৎসব ২০১২- রেজিস্ট্রেশনের বিস্তারিত তথ্য

0

দেশের শিক্ষার্থীদের গণিতে দক্ষ করে তোলা এবং সেই সঙ্গে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠেয় ৫৩তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে (আইএমও) যোগদানের জন্য বাংলাদেশ দলের সদস্য বাছাইয়ের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির আয়োজনে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসব ২০১২ ও দশম বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বার্ষিক পরীক্ষার পর ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে শুরু হবে এবারের লড়াই। বরাবরের মতো এবারের উৎসবের সার্বিক অর্থায়ন ও পৃষ্ঠপোষক আমাদের ব্যাংক “ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড”, আর ব্যবস্থাপনায় “প্রথম আলো”। এবার ১৭টি গণিত অঞ্চলে আঞ্চলিক গণিত উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। অঞ্চলগুলো হলো চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, যশোর, কুমিল্লা, সিরাজগঞ্জ, নোয়াখালী, গোপালগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, ঢাকা-১ ও ঢাকা-২। আঞ্চলিক উৎসবের বিজয়ীরা আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় দশম বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবে। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের সেরাদের নিয়ে আয়োজন করা হবে অষ্টম বাংলাদেশ গণিত ক্যাম্প। গণিত ক্যাম্পের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে গঠিত হবে বাংলাদেশ গণিত দল, যা আগামী জুলাই মাসে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে যোগ দেবে। এ ছাড়া থাকবে ২৪তম এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় গণিত অলিম্পিয়াডে (এপিএমও) অংশগ্রহণের সুযোগ।

 

ক্যাটাগরি
চারটি ক্যাটাগরিতে গণিত অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হবে।
ক. প্রাইমারি, (বাংলা মাধ্যম) – তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী বা সমমান এবং স্ট্যান্ডার্ড-৩ থেকে স্ট্যান্ডার্ড-৫।
খ. জুনিয়র, (বাংলা মাধ্যম) – ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী বা সমমান এবং স্ট্যান্ডার্ড-৬ থেকে স্ট্যান্ডার্ড-৮।
গ. সেকেন্ডারি, (বাংলা মাধ্যম)- নবম, দশম শ্রেণী ও এসএসসি পরীক্ষার্থী বা সমমান এবং ও-লেভেল এবং ও-লেভেল পরীক্ষার্থী।
ঘ. হায়ার সেকেন্ডারি, (বাংলা মাধ্যম)- একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণী ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী বা সমমান এবং এ-লেভেল এবং এ-লেভেল পরীক্ষার্থী।

 

রেজিস্ট্রেশনের খোঁজখবর

সব আঞ্চলিক উৎসবে ‘আগে এলে আগে’ ভিত্তিতে মোট এক হাজার শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন করা হবে। নিবন্ধন চলবে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। শিক্ষার্থীদের ২০১১ সালে অধীত শ্রেণী অনুসারে তার ক্যাটাগরি নির্ধারিত হবে। বাংলা ও ইংরেজি উভয় মাধ্যমের বেলায় এটি প্রযোজ্য হবে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে যে কেউ অংশ নিতে পারবে, তবে  রেজিস্ট্রেশন করার সময় শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র, বেতনের রসিদ, ফলাফলের বিবরণী কিংবা এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র যেকোনো একটি প্রমাণ হিসেবে দেখাতে হবে।
নিচে যোগাযোগের ঠিকানা দেওয়া হলো:

 

দিনাজপুর: ২ ডিসেম্বর শুক্রবার থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু। বিস্তারিত যোগাযোগ: প্রথম আলো অফিস, স্টেশন রোড, হোটেল কণিকার নিচতলা, দিনাজপুর। প্রয়োজনে: মোহাম্মদ আলী (০১৭২১৭৮৬৩১২) ও আশরাফুল আলম সুমন (০১৭৩০৯০৭৫০০)।

 

রংপুর: ২ ডিসেম্বর শুক্রবার থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু। বিস্তারিত যোগাযোগ: প্রথম আলো রংপুর অফিস, আইনজীবী সমিতি ভবন, কাচারী বাজার, রংপুর। প্রয়োজনে: ফোন: ০৫২১-৫১৯৫১ (অফিস) অথবা আরিফুল হক (০১৭১১০৭০৬৭৪) ও সত্যজিত ঘোষ (০১৭১৫৯৪৯৪৪২)।

 

সিরাজগঞ্জ: ২ ডিসেম্বর শুক্রবার থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু। বিস্তারিত যোগাযোগ: প্রথম আলো সিরাজগঞ্জ অফিস, প্রথম আলো অফিস (৩য় তলা) সিরাজী সড়ক, মুক্তারপাড়া, সিরাজগঞ্জ। প্রয়োজনে: এনামুল হক খোকন (০১৭১৩২০১৫৪১) ও আবুল হাসেম (০১৯১৭৩২৯৩৩৩)।

 

রাজশাহী: ২ ডিসেম্বর শুক্রবার থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু। বিস্তারিত যোগাযোগ: প্রথম আলো রাজশাহী অফিস, ২০৯, কুমারপাড়া, বোয়ালিয়া, থানার মোড়, রাজশাহী। প্রয়োজনে: মাসুদ রানা (০১৭২০০৮৪৭১৪) ও শামিম আখতার (০১৭২৫০১৮৫৩৩)।

 

কুষ্টিয়া: ২ ডিসেম্বর শুক্রবার থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু। বিস্তারিত যোগাযোগ: প্রথম আলো কুষ্টিয়া অফিস, ১২৩/১ পলান বক্স রোড (ছয় রাস্তার মোড়), থানাপাড়া, কুষ্টিয়া। প্রয়োজনে: তৌহিদী হাসান (০১৭১৭-৪৪৫৫০৪) ও মনিরুজ্জামান কাজল (০১৭১০২৪২০০৫)।

 

যশোর: ২ ডিসেম্বর শুক্রবার থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু। বিস্তারিত যোগাযোগ: প্রথম আলো যশোর অফিস, সমবায় ইউনিয়ন ভবন, এম এম আলী রোড, যশোর। প্রয়োজনে: ০৪২১-৬৬৮৮২ (অফিস) এবং মনিরুল ইসলাম (০১৭১৭২৫১৬৯৪) ও অলিপ কুমার বিশ্বাস (০১৯১৭৯৯৮০০০)।

 

খুলনা: ২ ডিসেম্বর শুক্রবার থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু। বিস্তারিত যোগাযোগ: প্রথম আলো খুলনা অফিস, ত্রিভিন টাওয়ার (চতুর্থ তলা), ৩/১ কেডিএ এভিনিউ, শিববাড়ি মোড়, খুলনা। প্রয়োজনে: শেখ আবু হাসান (০১৭১৩৪০০৭০৫) ও সজীব কুমার মোহলি (০১৭১৫৯৫১০৩৬)।

 

গোপালগঞ্জ: ২ ডিসেম্বর শুক্রবার থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু। রেজিস্ট্রেশনের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রথম আলোর প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বিস্তারিত যোগাযোগ: বন্ধুসভা পাঠাগার, ১৮০ পুরাতন বাজার রোড, গোপালগঞ্জ। প্রয়োজনে: সুব্রত সাহা বাপী (০১৭৪০৫৫২৫৫৫)।

 

খাগড়াছড়ি: ২ ডিসেম্বর শুক্রবার থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু। রেজিস্ট্রেশনের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রথম আলোর প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বিস্তারিত যোগাযোগ: খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, খাগড়াছড়ি। প্রয়োজনে: সৈকত দেওয়ান (০১৫৫০৬০৬০৬৯) ও দুলাল হোসেন (০১৫৫৬৫২৯২৭৭)।

 

চট্টগ্রাম: ৩ ডিসেম্বর শনিবার থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু। বিস্তারিত যোগাযোগ: প্রথমা, সানমার স্প্রিং গার্ডেন, জামালখান, চেরাগী পাহাড়, চট্টগ্রাম। প্রয়োজনে: আলাউদ্দিন খোকন (০১৭১৬৮৮২৩১৯) ও নূরূল আবরার (০১৭২৬২০৯০৩৩)।

 

ময়মনসিংহ: ৯ ডিসেম্বর শুক্রবার থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু। বিস্তারিত যোগাযোগ: প্রথম আলো ময়মনসিংহ অফিস, রাইয়ান ভিলা, ১৪ সাহেব আলী রোড, নতুন বাজার, ময়মনসিংহ। প্রয়োজনে: কামরুজ্জামান তুহিন (০১৭১১৮২০৬৬১) ও রফিকুল খান হীরা (০১৭১০৬৭৯৭০১)।

 

বরিশাল: ৯ ডিসেম্বর শুক্রবার থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু। বিস্তারিত যোগাযোগ: প্রথম আলো বরিশাল অফিস, ১৭ প্যারারা রোড (দ্বিতীয় তলা), বরিশাল। প্রয়োজনে: সাইফুর রহমান (০১৭১১৪৭০৭৩৬) ও আপেল মাহমুদ (০১৯১২৫২৬৮৭৯)।

 

নোয়াখালী: ১৭ ডিসেম্বর শনিবার থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু। বিস্তারিত যোগাযোগ: প্রথম আলো অফিস, টাউন হল মোড়, ফ্যাট রোড (দ্বিতীয় তলা) মাইজদী কোর্ট, নোয়াখালী। ফোন: নিলয় মিলন (০১৭১৩৬১১৬৯২), কামাল হোসেন (০১৮১৮৯০৫৪৫৯)।

 

কুমিল্লা: ১৭ ডিসেম্বর শনিবার থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু। বিস্তারিত যোগাযোগ: প্রথম আলো কুমিল্লা অফিস, কাজী অহিদুজ্জামান ম্যানশন (তৃতীয় তলা), কান্দিরপাড়, কুমিল্লা। ফোন: মহিউদ্দিন লিটন (০১৭১৭১৪৭৩৭৬) ও মাসুদ রানা জুয়েল (০১৭১৭৫২০০৯২)।

 

সিলেট: ১৭ ডিসেম্বর শনিবার থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু। যোগাযোগ: প্রথম আলো সিলেট অফিস, অ্যাপেক্স গ্যালারির বিপরীতে, বারুতখানা, সিলেট। ফোন: এন ডি মিথুন (০১৭১৭৮৭০৫৮৬) ও সহিদুজ্জামান পাপলু (০১৭১৭১৪০১৯৩)।

 

ঢাকা-১ এবং ঢাকা-২:  ঢাকা-১ ও ঢাকা-২ রেজিস্ট্রেশনের স্থান ও তারিখ পরে জনানো হবে। প্রয়োজনে: রকিবুল ইসলামের (০১৮১৫২৫৯৪৭৩) সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।

 

আঞ্চলিক গণিত উৎসব ও রেজিস্ট্রেশনের তারিখ-সংক্রান্ত যেকোনো পরিবর্তন এবং নতুন তথ্যের জন্য শিক্ষাথীদের প্রথম আলো এবং রোববারের ‘বিজ্ঞান প্রজন্ম ও গণিত ইশকুল’ পাতায় নজর রাখতে হবে। গণিত অলিম্পিয়াডের নমুনা প্রশ্ন পাওয়া যাবে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের ওয়েবসাইটে: www.matholympiad.org.bd
গণিত উৎসব-সংক্রান্ত ব্যাপারে উৎসবের সমন্বয়কারী বায়েজিদ ভূঁইয়ার সঙ্গে (০১৯১৭০৯৩১৯১) যোগাযোগ করা যাবে।

আঞ্চলিক গণিত উৎসব ২০১২ – সম্ভাব্য সময়সূচী

0

আঞ্চলিক গণিত উৎসবের সময়সূচী

অঞ্চল/ শিক্ষার্থী সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত জেলাসমূহ আঞ্চলিক ভেন্যু তারিখ ও বার
দিনাজপুর পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুর দিনাজপুর জিলা স্কুল ১৮/১২/২০১১
রবিবার
রংপুর কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর রংপুর জিলা স্কুল ১৯/১২/২০১১
সোমবার
সিরাজগঞ্জ সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও পাবনা বিএল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়,সিরাজগঞ্জ ২০/১২/২০১১
মঙ্গলবার
রাজশাহী নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও রাজশাহী রাজশাহী মডেল স্কুল ও কলেজ ২১/১২/২০১১
বুধবার
কুষ্টিয়া মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া কুষ্টিয়া জিলা স্কুল ১৮/১২/২০১১
রবিবার
যশোর ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল ও যশোর যশোর জিলা স্কুল ১৯/১২/২০১১
সোমবার
খুলনা সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও খুলনা খুলনা জিলা স্কুল ২০/১২/২০১১
মঙ্গলবার
গোপালগঞ্জ রাজবাড়ী, শরিয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এস এম মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়,গোপালগঞ্জ ২১/১২/২০১১
বুধবার
খাগড়াছড়ি রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ২৬/১২/২০১২
সোমবার
চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবান সেন্ট প্লাসিডস্ হাইস্কুল, চট্টগ্রাম ২৭/১২/২০১২
মঙ্গলবার
ঢাকা- ১ নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা মহানগর দক্ষিন গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, ঢাকা ৩০/১২/২০১১
শুক্রবার
বরিশাল ভোলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী ও বরিশাল বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড উচ্চ বিদ্যালয় ৩/০১/২০১২
মঙ্গলবার
ঢাকা- ২ নরসিংদী ,গাজীপুর ও ঢাকা মহানগর উত্তর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ৬/০১/২০১২শুক্রবার
ময়মনসিংহ টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ বিদ্যাময়ী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,ময়মনসিংহ ০৭/০১/২০১২
শনিবার
কুমিল্লা ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, কুমিল্লা নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কুমিল্লা ১০/০১/২০১২মঙ্গলবার
নোয়াখালী লক্ষীপুর, ফেনী ও নোয়াখালী নোয়াখালী জিলা স্কুল ১১/০১/২০১২বুধবার
সিলেট হবিগঞ্জ , সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট ব্ল–বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিলেট ১৪/০১/২০১২শনিবার
জাতীয় উৎসব আঞ্চলিক উৎসবের বিজয়ীরা সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল, ঢাকা ১০/০২/২০১২ ও ১১/০২/২০১২
শুক্রবার ও শনিবার

PARADIGM SHIFT

0

Sleepless in Sylhet: and a Mathathon

author: Dr Abed Chaudhury

Never before in my life have I passed a sleepless night over Mathematics. Mathematics, at once an enigma and a fright for many, and a matter of excitement for a lucky few, somehow passed me by. I accepted it as an unpleasant but necessary fact of life, a body of knowledge to be acquired by rote and chore, to be repelled when possible and to cram when necessary. Although a student of Science including Physics and Chemistry, my Bangladeshi formal education never adequately showed the link between the language of nature and its fascinating mathematical foundation. (more…)

‘ডে’স উইথ ম্যাথস্’-এর ঝাঁপি থেকে

0

সকাল সোয়া আটটা। ভিডিও ক্যাসেটে রেকর্ড চলছিল। হঠাত ফিতা আটকে গেল। এডিটিং প্যানেলে আমি ছাড়া আছে মামুন ভাই। আমার করুণ চেহারা দেখে নিজেই আবার রেকর্ডিং শুরু করলেন। পরদিন গণিত দল রওনা দিবে ভিয়েতনাম। সব কাজ শেষ করতে হবে তার আগেই। অবশেষে গণিত অলিম্পিয়াড নিয়ে ডকুমেন্টারির মাস্টার টেপ তৈরী হলো।

সাড়ে দশটা নাগাদ সোবহানবাগ পৌছালাম। টেপ থেকে ডিভিডি করতে হবে। ডিভিডিতে ট্রান্সফার চলছিল। হঠাৎ আবিষ্কার করলাম ছবির সাথে কোন শব্দ নেই। অগত্যা আবার দৌড় বাবর রোডে এডিটিং প্যানেলে। আবার রেকর্ড করতে হলো। আবার ফিরলাম সোবহানবাগ। কিন্তু লাভ কিছুই হলোনা। শ্রুতিচিত্র প্রডাকশনস-এর মানিক ভাইয়ের সাহায্য নিলাম। তিনি বললেন এডিটিং প্যানেলের টেপ রেকর্ডার নিজের বাসায় নিয়ে কাজটা করে দিবেন। পরদিন সকালে অবশেষে মানিক ভাইয়ের সাহায্যের কারণেই আমি ‘ডে’স উইথ ম্যাথস্’-এর ডিস্ক হাতে পেয়েছিলাম।

এটা খুব ছোট একটা অংশ আমার অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে। গণিত উৎসবের উপর ডকুমেন্টারি তৈরীর অভিজ্ঞতা আসলে লিখে বোঝানো খুব কঠিন। বাংলাদেশের ৬টি শহরে গণিত উৎসবে আমি দেখেছি কী উৎসাহ বাচ্চাদের এই উৎসব নিয়ে আর তার সাথে মুভার্সদের কী অক্লান্ত পরিশ্রম ! কত দূরের পথ পাড়ি দিয়ে শুধুই এই আনন্দে অংশ নিয়েছেন জাফর ইকবাল স্যার, লুৎফুজ্জামান স্যার! আর এসবের মধ্য দিয়ে একটু একটু করে আমার ঝুলিতে জমা হচ্ছিল ছোট ছোট গল্প, ছোট ছোট সিকোয়েন্স। এডিটিং প্যানেলে বসে একা একা যখন কাজ করেছি বারবার উৎসবকে আরো একটু কাছে থেকে দেখেছি। কিছু কিছু সময় যন্ত্রের মতো দৃশ্যের পর দৃশ্য বাদ দিয়েছি । বুঝে উঠতে পারিনি কোন দৃশ্য রাখব কোনটা বাদ দিব। মুনির ভাইকে ধন্যবাদ আমার সাধনার স্বাধীনতায় কোন ভাবেই হস্তক্ষেপ করেননি।

উৎসবের যে অংশটুকু আমরা দেখি বা দেখাই তাকে ঘিরে যে বিশাল যজ্ঞ তা কোথাও দেখানো হয়নি কখনো। ঢাকার বাইরে কোন উৎসব দেখতে যাওয়া এ যজ্ঞের একটা ভারি মজার অংশ। সৌভাগ্যক্রমে ২০০৭ সালের বেশ কয়েকটা উৎসবে যাওয়ার সুযোগ আমি পেয়েছিলাম। এর মধ্যে যেটা না বললেই নয় সে গল্পটা হলো দিনাজপুর গণিত উৎসবের। প্রায় নয় ঘন্টার যাত্রা শেষে দিনাজপুরের রামসাগর দীঘির বাংলোতে আমরা পৌছাই। সঙ্গী ছিলেন নবী ভাই, মুনির ভাই, জাফর ইকবাল স্যার, লুৎফুজ্জামান স্যার, সোহাগ ভাই আর পিয়াস। একে তো জঙ্গল আর দীঘির পাড়ে বাংলো। তার উপর ইলেক্ট্রিসিটি থাকেনা প্রায়ই। সবাই অন্ধকারে বাইরে দাঁড়িয়ে আর এর মধ্যে শুরু হলো ভূতের গল্প। সোহাগ ভাই থেকে শুরু করে জাফর ইকবাল স্যার সবাই নিজ নিজ ঝাঁপি খুলে বসলেন। আমি আগেই ঘোষণা দিয়েছিলাম আমি ভূত ভয় পাই। তাতে মনে হয় অন্যদের আরো সুবিধা হলো। স্যার শোনালেন ভূত নিয়ে তার সব এক্সপেরিমেন্ট সফল কিন্তু একটার কোন মীমাংসা হয়নি। চারদিকে জোনাকী নিভছে আর জ¦লছে। ঝিঁঝিঁর শব্দ কানে আসছে। ত্রিসীমানায় জনমানব আছে কীনা বাংলোর সামনে অন্ধকারে তাও বোঝা মুশকিল। আর তার মধ্যে যখন স্যার বললেন এক্সপেরিমেন্ট অমীমাংসিত তাহলে তো একটু ভয় পেতেই হয়।

এই মজার গল্পগুলো আমি আমার ডকুমেন্টারিতে আনতে পারিনি। ছুটে গেছে আরো অনেক টুকরো ঘটনা যা আসলেই আমাদের এই প্রতিযোগিতাকে উৎসব বানায়। কিন্তু নিজের জায়গা থেকে বলবো, ছবি বানানোর স্বপ্নটা ভালোভাবে দেখে ওঠার আগেই আমার এই স্বপ্নটা পূরণ হয়েছিল গণিত উৎসব আর মুনির ভাইয়ের কারণে। একা বসে যখন এডিট করতাম মাঝে মাঝেই হাল ছেড়ে দিতাম। আবার সাহস যোগাতাম।  ‘ডে’স উইথ ম্যাথস্’ আমাকে নিজের গন্ডি থেকে অনেক দূরে নিয়ে আসে। অনেকগুলো মানুষ অকারনেই আমাকে সাহায্য করে, ভালবাসে এটা আসলেই অদ্ভুত। নানান ব্য¯Íতায় এখন গণিত উৎসব থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি । এখনো পত্রিকার পাতায় বিজ্ঞপণে চোখ আটকে যায়। মনে মনে একবার হিসাব করে দেখি উৎসবে যেতে পারব কীনা। হয়তো আর যাওয়া হয়ে ওঠেনা। তারপরও গণিত উৎসব সবসময়ই থাকবে আমার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি ।

নন্দিতা তাবাসসুম

মুভার্স

সেই দিন

0

২০০৭ সালের এক শীতের সকাল। আমার বড় ছেলে আজিমপুর গার্লস স্কুলে গণিত পরীক্ষা দিতে যাবে। সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে পৌঁছুতে হবে। সে গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরিতে দশম শ্রেণীতে পড়ে। যে ছেলে স্কুলের গণিত পরীক্ষায় কখন ও ভাল করল না সে আবার এক গণিত কম্পিটিশানে পরীক্ষা দিতে যাবে। আমার ও তাই প্রচন্ড উৎসাহ। ভোরে উঠে সকালের নাস্তা সেরে স্কুল ইউনিফরম পরে ছেলে এবং আমি সকাল সাড়ে আটটার মধ্যেই স্কুল চত্বরে পৌঁছে গেলাম। বেশ বড় খোলা মাঠের মধ্যে বিশাল আয়োজন দেখে একটু অবাক হলাম। বড় একটা মঞ্চ এবং তার সামনে প্রায় দু’হাজার মানুষের বসার আয়োজন।  শিহরিত হলাম যখন দেখলাম ডঃ জাফর ইকবাল স্যার কে। এই প্রথম আমি স্যার কে মুখোমুখি দেখলাম। সাহস আমার বরাবরই কম। সে কারণে এতো প্রিয় মানুষটিকে চোখের সামনে পেয়ে ও কথা বলার সাহস করতে পারলাম না।  সব পরীক্ষার্থীরা লাইনে দাঁড়িয়ে গেল। স্কুল ইউনিফরম পরিহিত বিভিন্ন স্কুলের বাচ্চাদের যেন এক মিলনমেলা। বেলুন উড়ানো হল। শুরু হল জাতীয় সংগীত। সবাই গাইছে। কেন যেন আবার শিহরিত হলাম। উদ্বোধন শেষে পরীক্ষার্থীরা যার যার কক্ষে ঢুকে গেল। ছেলেকে দেখলাম হাসিমুখে পরীক্ষার হ’লে যাচ্ছে। তাই আমি ও কোন টেনশন ছাড়া হাসিমুখে বসে রইলাম। জাফর ইকবাল স্যারের সাথে আর ও কয়েকজন  বড় বড় মানুষ রয়েছেন। খোদাদাদ খান স্যার কে দেখলাম।কিন্তু কাছে গিয়ে পরিচয় দেয়ার সাহস হল না। মঞ্চের উপর ব্যানারে লিখা ‘উৎসব’ শব্দটি নিয়ে একটু ভাবলাম কিন্তু বুঝলাম না। বইয়ের স্টলে গণিতের উপর লেখা কিছু বাংলা বই দেখে খুউব ভাল লাগল এবং কয়েকটি কিনলাম। বাসা কাছে হওয়াতে বইগুলো বাসায় রেখে ছোট ছেলেকে নিয়ে আসলাম।

পরীক্ষা শেষ। পরীক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে বেড়িয়ে আসছে। এ কি! সবার হাতে জুস, কেক, পেন্সিল, সার্টিফিকেট আর মুখে হাসি। কি চমৎকার একটি দৃশ্য! গোঁফওয়ালা এক ভদ্রলোক  মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাইক এ বলছেন যেন পরীক্ষার্থীরা সবাই দর্শকের সারিগুলোয় সামনের দিকে বসে এবং গার্ডিয়ানরা পেছনের দিকে বসেন। জাফর স্যার সহ অন্য স্যার- রা মঞ্চে বসলেন । শুরু হল প্রশ্নোত্তর পর্ব। সাধারণত আমরা জানি শিক্ষক প্রশ্ন করেন আর শিক্ষার্থী উত্তর দেয়। আর এখানে ঠিক তার উল্টো।  শত শিক্ষার্থী হাত তুলেছে প্রশ্ন করার জন্য। হাত তোলা দেখে মনে হল, কত শত প্রশ্ন তাদের জমা হয়ে আছে যা তাদের স্যারদের কাছে করার সুযোগ হয়নি।  কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় সময়। তাইতো বেঁধে দিতে হয় নিয়ম। উপস্থাপক হাসিমুখে কিন্তু হেঁড়ে গলায় বলছেন, একটি ছেলে প্রশ্ন করলে তারপর একটি মেয়ে প্রশ্ন করবে, আবার একজন লম্বা হলে পরের জন হবে খাঁট, একজন মোটা হলে পরের জন চিকন। অনেকে কাগজের টুকরায় প্রশ্ন লিখে জমা দিচ্ছে। মঞ্চে উপবিষ্ট স্যার-রা একের পর এক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাচ্ছেন।  সুন্দর প্রশ্নের জন্য কয়েকজন পুরস্কার নিল। হেঁড়ে গলার লোকটির কথায় একটু পর পর হাততালি হচ্ছে আর আমি হারিয়ে যাচ্ছি ‘উৎসব’ শব্দটির মাঝে।

শুরু হল, এক মিনিট পর্ব। পরে বুঝলাম, মঞ্চে উপবিষ্ট স্যারেরা এক মিনিট করে বলবেন। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার জন্য এত্তো চমৎকার আয়োজন! আমি ভাবছি  আর কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছি। এক মিনিট পর্ব শেষে উপস্থাপক বলছেন, তিন ম- কে না বল ; মিথ্যা, মাদক ,মুখস্ত। সবাই জোর গলায় বলছে, না…। তিনি মা’কে খুশী করার কথা বললেন। কত সহজে মা’কে খুশী করা যায়, সেরকম কিছু কাজের কথা বললেন। মা’কে খুশী করতে পারলে সবচেয়ে বড় যে মা ‘দেশ’ কে খুশী করা যাবে সে কথা বললেন। এবার আর হারিয়ে যাওয়া নয়, সারা শরীরে প্রচন্ড শিহরণ আর চোখে জল। স্কুলের বাচ্চাদের জন্য এতো চমৎকার উৎসব! এতো চমৎকার আয়োজন ! কোথায় যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, এ দেশ সত্যিই সোনার দেশ হবে।

উপস্থাপকের কি এক অদ্ভুদ ক্ষমতা! তাঁর কথায়  হাসছি, হাততালি দিচ্ছি আবার তাঁরই কথায় চোখের জলে ভাসছি। উপস্থাপক বললেন, এবার শুরু হবে গণিতের গান, সবাই দাঁড়াও। কয়েকজন ছেলেমেয়ে হারমনিয়াম নিয়ে মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে গেল। আমরা ও সবাই দাঁড়িয়ে গেলাম। জীবনের এক ঘূর্ণিপাক আমার জীবনকে হঠাৎ থামিয়ে দিয়েছিল। সেই থুবড়ে পড়া জীবনে আমার দু’টি খোকন সোনা কে নিয়ে পথ চলার জন্য যে গানটি গাইতাম হঠাৎ শুনি সেটিই সবাই গাইছে; আমরা করব জয়, আমরা করব জয়, আমরা করব জয় একদিন…। গাইছি আর হৃদয়ের  কোথায় যেন প্রচন্ড এক আলোড়ন বয়ে চলেছে।

এবার পুরস্কার ঘোষণা করা হচ্ছে। প্রাইমারী এবং জুনিয়র ক্যাটাগরির  বিজয়ীদের নাম ঘোষণার পর সেকেন্ডারি ক্যাটাগরির বিজয়ীদের নাম ঘোষণা সেকেন্ড রানার আপ দিয়ে শুরু হল। হঠাৎ শুনি, সামিন রিয়াসাত, আমার ছেলে। সে আমার দিকে তাকালো। আমি ইশারায় বললাম, যাও। সে দৌড়ে মঞ্চে গিয়ে স্যারের হাত থেকে ক্রেস্ট নিল। এতক্ষণের হাসি কান্নার শিহরণ আর এখন অসম্ভব এক সূখানুভুতি।

সেদিনের সেই হাসি, কান্না আর সেই সূখানুভুতি নিয়েই গণিত অলিম্পিয়াডে আমার পথ চলা।

রাজিয়া বেগম (আরফিন)

প্রভাষক (গণিত)

টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ঢাকা।

Go to Top
%d bloggers like this: